সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ছোলা কলিওয়াদা (Chana Koliwada) রেসিপি | হোটেল স্টাইল কাবুলি ছোলা পাকোড়া | সহজ ভারতীয় স্ন্যাক্স | Cookgiri Rasoi

এটি একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ভারতীয় স্ন্যাক্স যা খুব সহজে তৈরি করা যায়। এই রেসিপিটি অনুসরণ করে আপনিও তৈরি করতে পারেন হোটেল স্টাইলের কাবুলি ছোলা পাকোড়া।



🪙 আজকের রেসিপি

​আজকে নিয়ে এলাম খুব সাধারণ স্ন্যাক রেসিপি। নাম টি হলো ছোলা কলিওয়াদা (Chana Koliwada)।
আপনি নিচের মত করে বলতে পারেন ছোলা কলিওয়াদা বা ছোলার পাকোড়া।
এটি মহারাষ্ট্রীয় খুবই জনপ্রিয় রেসিপি, বড় বড় হোটেল বা রেস্টুরেন্টে পাওয়া যায়, কিন্তু খুব সহজে আপনি ঘরে তৈরি করতে পারেন এই ছোলা কলিওয়াদা (Chana Koliwada)।
Cookgiri Rasoi আপনাকে কথা দিচ্ছে আপনি যদি একবার ট্রাই করেন, আপনার ফেভারিট হতে পারে এই ছোলা কলিওয়াদা।


​🫘 ছোলা সম্পর্কে কিছু কথা

​সাধারণত ছোলা দুই ধরণের হয়: দেশি ছোলা এবং কাবুলি ছোলা।
আজ আমরা কাবুলি ছোলার নতুন রেসিপি — হোটেল বা রেস্টুরেন্ট স্টাইল কিভাবে বানায় তা জানবো।


​🍅 আমার কিছু কথা

​আপনি দেখছেন হোটেল বা রেস্টুরেন্টে যে খাবার বানানো হয়, সেটি দেখতে খুব লাল টুকটুকে হয় কিন্তু ঘরে বানালে তেমন লাল টুকটুকে হয় না।
এর কারণ হলো হোটেল বা রেস্টুরেন্টে অনেক সময় খাবার রং ব্যবহার হয়ে থাকে।
কিন্তু এই খাবার রং বেশি ব্যবহার করলে শরীরের ক্ষতি হতে পারে, তাই ব্যবহার না করাই ভালো।
​আপনার যদি এমন লাল টুকটুকে খাবার পছন্দ হয়, চিন্তা করবেন না, Cookgiri Rasoi আছে আপনার সাথে।
এমন লাল টুকটুকে প্রাকৃতিক রং পেতে শুকনো কাশ্মীরি লঙ্কা পানিতে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে বা একটু সেদ্ধ করে পেস্ট বানিয়ে ব্যবহার করুন, দেখবেন খুব সুন্দর লাল টুকটুকে রং হবে।


​🌟 হাইলাইট (Highlights)

​এই পদটি বানাতে খুব কম উপকরণ লাগে।

​উপকরণ সবার রান্না ঘরে খুব সহজে পাওয়া যায়।

​এই ছোলা কলিওয়াদা দুই রকম ভাবে বানানো যায়, আর দুই রকম ভাবে বানানো খুবই সহজ।

​এই পদটি দেখতে খুব সুন্দর ও খেতে মুচমুচে হয়।

​ছোলা কলিওয়াদা এতটাই জনপ্রিয় যে বড় বড় হোটেল বা রেস্টুরেন্টে খুব বেশি দামে বিক্রি হয়।


​⚠️ সতর্কতা ও টিপস

​ছোলা পুরোপুরি সেদ্ধ না করে একটু কাঁচা রাখতে হবে।

ছোলা পুরোপুরি সেদ্ধ হয়ে নরম হলে মসলা বা ব্যাটারে দিয়ে মাখানোর সময় ছোলা সব ভেঙে বা গলে যাবে।

​আপনি যদি বেশি ঝাল খেতে পছন্দ করেন, কাঁচা লঙ্কা বেশি ব্যবহার করবেন, শুকনো লঙ্কা গুঁড়ো না।

শুকনো লঙ্কা গুঁড়ো বেশি ব্যবহার করলে ছোলা ভাজার সময় খুব তাড়াতাড়ি কালো হয়ে যায়, এতে দেখতে খুব খারাপ লাগে ও ভেতরে কাঁচা ভাব থাকে।

এর ফলে খুব একটা মুচমুচে হয় না এই ছোলা কলিওয়াদা।
​তেলে ভাজার সময় তেল যেনো বেশি গরম বা ঠান্ডা না হয়।
তেল ঠান্ডা হলে সব ছোলা এক সাথে লেগে যাবে।
আর বেশি গরম হলে খুব তাড়াতাড়ি উপরটা শক্ত ও লাল হয়ে যাবে।
এর ফলে ভিতরে কাঁচা ও নরম হবে।


​🧄 উপকরণ (Ingredients)

  • ​ছোলা ২০০ গ্রাম
  • ​কাঁচা লঙ্কা কুচি আপনার স্বাদ অনুযায়ী
  • ​আদা রসুন বাটা ২ টেবিল চামচ
  • ​লবণ স্বাদ অনুযায়ী
  • ​লাল লঙ্কা গুঁড়া \frac{১}{২} টেবিল চামচ
  • ​হলুদ গুঁড়া ১ টেবিল চামচ
  • ​ধনিয়া গুঁড়া ১ টেবিল চামচ
  • ​লেবুর রস ১ টেবিল চামচ
  • ​ডিম ১ টি (ব্যবহার না করলেও হবে)
  • ​ময়দা ১ কাপ
  • ​কর্নফ্লাওয়ার ২ কাপ
  • ​বেসন \frac{১}{২} কাপ
  • ​পানি ১ কাপ
  • ​জোয়ান ১ চা চামচ
  • ​তেল ভাজার জন্য পরিমাণ মতো
  • ​চাট মসলা \frac{১}{২} টেবিল চামচ

​🍳 প্রথম পদক্ষেপ

​ছোলা রাতে পানিতে ভিজিয়ে রাখুন।
সকালে ভালো করে ধুয়ে (Wash) অল্প একটু লবণ ও একটু হলুদ দিয়ে সেদ্ধ করুন।

প্রেসার কুকারে সেদ্ধ করলে দুটি সিটি দিন, এতে করে ছোলা তাড়াতাড়ি সেদ্ধ হয়ে যাবে।
ছোলা ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ (পার্সেন্ট) সেদ্ধ করবেন, পুরোপুরি না।


​🔥 এবার ছোলা কলিওয়াদা (Chana Koliwada) বানানোর পদ্ধতি

​এই ছোলা কলিওয়াদা বা ছোলা পাকোড়া খুব সহজে দুটি পদ্ধতিতে বানানো যায়।

​🥣 ১️⃣ ব্যাটার বানিয়ে ছোলা কলিওয়াদা তৈরির পদ্ধতিটি

​একটি বাটিতে কাঁচা লঙ্কা কুচি, আদা রসুনের বাটা, লবণ, লাল লঙ্কা গুঁড়া, হলুদ গুঁড়ো, জোয়ান, ধনিয়া গুঁড়ো, লেবুর রস, ডিম, ময়দা, কর্নফ্লাওয়ার ও বেসন দিয়ে ভালোভাবে মেশান।

তারপর অল্প অল্প জল দিন ও মাখাতে থাকুন।
এভাবে ঘন করে ব্যাটার তৈরি করুন।

​ছোলা ব্যাটারের ভিতর দিয়ে আস্তে আস্তে মাখিয়ে নিন।
একটি কড়াইয়ে তেল গরম করুন। তেল একটু গরম হলে ছোলা হাতে উঠিয়ে তেলে ছাড়ুন।

ছোলা এক সাথে তেলে ছাড়বেন না, আঙুলের ফাঁকা দিয়ে এক একটা করে।
​এভাবে সব ছোলা তেলে ছাড়া হয়ে গেলে একটা চামচ দিয়ে আস্তে আস্তে নেড়ে দিন।

এভাবে ৬ থেকে ৭ মিনিট ভাজার পর এক সময় দেখবেন ছোলা শক্ত ও একটু লাল হয়ে গেছে।
তার মানে হয়ে গেছে, তেল থেকে উঠিয়ে নিন।

​এভাবে যদি বুঝতে না পারেন, তেল থেকে একটি ছোলা উঠিয়ে খেয়ে দেখুন। যদি শক্ত ও মুচমুচে লাগে, তাহলে বুঝবেন ছোলা কলিওয়াদা ফ্রাই হয়ে তৈরি হয়ে গেছে।

​🥣 ২️⃣ সব কিছু একসাথে ম্যারিনেট করে ছোলা কলিওয়াদা তৈরির পদ্ধতি

​ছোলা সেদ্ধ করার পদ্ধতিটা একই থাকবে।

সেদ্ধ ছোলা একটি বাটিতে নিন, এই ছোলার উপর কাঁচা লঙ্কা কুচি, আদা রসুনের বাটা, লবণ, লাল লঙ্কা গুঁড়া, হলুদ গুঁড়ো, জোয়ান, ধনিয়া গুঁড়ো, লেবুর রস, ডিম, ময়দা, কর্নফ্লাওয়ার ও বেসন দিন।

​এবার একটু একটু করে পানি দিন আর হাত দিয়ে মাখাতে থাকুন।
যখন দেখবেন ছোলার গায়ে সব কিছু মাখো মাখো হয়ে গেছে, তখন আর পানি দেবেন না।

​ছোলা কলিওয়াদা দুরকম হলেও ভাজার পদ্ধতি একই থাকবে। এই একই ভাবে তেলে ভেজে নিন।

​🍽️ পরিবেশন

​ছোলার উপরে চাট মসলা ছিটিয়ে দিয়ে পরিবেশন করুন। ❤️ Cookgiri Rasoi টিপস

​এই ছোলা কলিওয়াদা চা-এর সাথে বিকেলের নাস্তা হিসেবে একদম পারফেক্ট!
টক দই বা মিন্ট চাটনির সাথে পরিবেশন করলে স্বাদ আরও বাড়বে।


🕒 রেসিপি সময়:

এই রেসিপি বানাতে মোট সময় লাগবে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ মিনিট, একদম সহজে আপনি ঘরেই তৈরি করতে পারবেন।


👩‍🍳 লিখেছেন:

এই ছোলা কলিওয়াদা (Chana Koliwada) রেসিপি লিখেছেন Cookgiri Rasoi।


💬 আপনার মতামত দিন:

আপনার কাছে কোন পদ্ধতি বেশি পছন্দ হলো — ব্যাটার পদ্ধতি না ম্যারিনেট পদ্ধতি?
আর আপনি যদি ঘরে বানিয়ে থাকেন, কেমন হয়েছে অবশ্যই কমেন্টে জানাবেন!

আপনার ফিডব্যাক আমাদের পরবর্তী রেসিপিগুলোর জন্য খুবই মূল্যবান ❤️


👉 আরও এমন মুচমুচে ও সহজ স্ন্যাক রেসিপি পেতে Cookgiri Rasoi-কে ফলো করতে ভুলবেন না!

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

কলকাতার বিখ্যাত ডিমের ডেভিল (Egg Devil) বাড়িতে বানিয়ে ফেলতে পারবেন সহজে

  কলকাতার বিখ্যাত ডিমের ডেভিল (Egg Devil) বাড়িতে বানিয়ে ফেলতে পারবেন সহজে  Egg Devil আজ আমরা নিয়ে এলাম কলকাতার খুব জনপ্রিয় স্ট্রিট ফুড ডিমের ডেভিল (Egg Devil)। আপনি যদি রেসিপিটি পড়ে মনে হবে যেন চোখের সামনেই ডিমের ডেভিল তৈরি হচ্ছে। এই পদ এতটাই জনপ্রিয় আর দেখতে এতটাই সুন্দর যে খাওয়ার আগেই দেখে মন ভরে যাবে। ডিমের ডেভিল খেতে ভীষণ মজাদার, আর বানানোও একেবারেই সহজ। ছোট থেকে বড়— নতুন যে কেউ পুরো রেসিপি পড়ে নিলেই সহজে বানাতে পারবে, আমার গ্যারান্টি। ডিমের ডেভিল বানাতে লাগে খুব কম উপকরণ, যা প্রায় সবার ঘরেই থাকে। তাহলে আর দেরি না করে দেখে নিই কী কী লাগবে এই রেসিপি বানাতে। আমরা বানাবো দুজনের জন্য— ৪টা ডিম (কেটে ৮ পিস হবে)। আমার মতে, ২ ডিমের ৪ পিস খেলেই পেট ও মন দুটোই ভরে যাবে। 🍗✨ রেস্টুরেন্ট স্টাইল চিকেন ললিপপ আজ থেকে বাড়িতেই বানান মচমচে চিকেন ললিপপ 😋 সসের সাথে পরিবেশন করলে ছোট থেকে বড় – সবার মন ভরে যাবে ❤️ 👉 পুরো রেসিপি পড়ুন এখানে আলু ডিম পরোটা হোটেল স্টাইল 👉 পুরো রেসিপি পড়ুন এখানে 📝 উপকরণঃ ১. সেদ্ধ ডিম – ৪টা (কেটে ২ পিস করুন) ২. সেদ্ধ আলু – ২ থেকে ৩ টা ৩. গরম মশলা গু...

Pomfret Fish Kalputi (Malvani Style) Recipe — পমফ্রেট ফিশ কলপুটি 🐟

 🐟পমফ্রেট ফিশ কলপুটি (Pomfret Fish Kalputi) — সাউথ ইন্ডিয়ান মালভানি রান্না Pomfret Fish Kalputi (Malvani Style) Recipe — পমফ্রেট ফিশ কলপুটি 🐟 ✍ লিখেছেন: SAHENSA MONDAL 📌 Cookgiri Rasoi নিজস্ব প্রতিবেদন ভারতের মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় মাছ হলো পমফ্রেট। এটি প্রধানত মুম্বাই, গুজরাট, দিল্লি, উড়িষ্যা, পশ্চিমবঙ্গ ইত্যাদি জায়গায় বেশি পাওয়া যায়। বাঙালি মানেই মাছ-ভাতের প্রেমিক! মাছের নাম শুনলেই মন ভালো হয়ে যায়। তাই আজ নিয়ে এলাম এক নতুন স্বাদ — পমফ্রেট কলপুটি (Kalputi), যা খুবই সুস্বাদু ও অনন্য। Pomfret Fish 🌟 হাইলাইট 1️⃣ এটি সাউথ ইন্ডিয়ান মালভানি (Malvani) রান্না। 2️⃣ স্বাদে আলাদা ও অসাধারণ। 3️⃣ বানাতে সময় লাগে মাত্র ২০–২৫ মিনিট। 4️⃣ মালভানি মশলা এই পদে সবচেয়ে জরুরি উপাদান। 🥥 মালভানি মশলা তৈরির উপকরণ 🥥 নারকেল – ½ পিস 🌶️ কাশ্মীরি লঙ্কা – ৭–৮টি 🌿 জিরা – ½ চামচ 🌿 গোটা ধনিয়া – ২ চামচ 🛢️ তেল – ১–২ চামচ 🧄 রসুন – ১ পিস 🫚 আদা – ২ টুকরো 🍃 তেজপাতা – ২টি 🌿 দারচিনি – ১ টুকরো 🌱 এলাচ – ৫–৬টি 🌰 গোলমরিচ – ৫–৬টি 🌸 লবঙ্গ – ৩–৪টি 🍃 করিবাতা – ৮–১০টি (না থাকলে চলবে) 🧅 পেঁয়াজ – ২টি ​👀...

🥚 ডিম আলু পরোটা রেসিপি: রেস্টুরেন্ট স্টাইল (Egg Potato Paratha Recipe Bengali)

🥚 ডিম আলু পরোটা রেসিপি: রেস্টুরেন্ট স্টাইল (Egg Potato Paratha Recipe Bengali) Potato Paratha আলু পরোটা (Aloo Paratha) ছোট থেকে বড় সবারই খুব পছন্দের একটি খাবার। সাথে ডিম (Egg) থাকলে এর স্বাদ আরও বেড়ে যায়। বাঙালির খাদ্য তালিকায় আলু এমন একটি সবজি, যা প্রায় প্রতিদিনই রান্নায় ব্যবহৃত হয়। মাছ, মাংস, শাক—সবকিছুর সাথেই আলুর বন্ধুত্ব জমে যায়। সকালের নাস্তা (Bengali Breakfast Recipe) হোক বা বিকেলের জলখাবার, নতুন কিছু খেতে চাইলে ডিম আলু পরোটা রেসিপি একটি দুর্দান্ত পছন্দ হতে পারে। এটি তৈরি করা যেমন সহজ, তেমনই স্বাদে ভরপুর। ঘরোয়া স্টাইলে পারফেক্ট চিকেন বিরিয়ানি রেসিপি ✅ আলুর উপকারিতা (Benefits of Potato) আলুতে রয়েছে প্রচুর ফাইবার, মিনারেল এবং ভিটামিন, যা শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। সঠিক পরিমাণে আলু খেলে এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে এবং শরীরকে প্রয়োজনীয় শক্তি যোগায়। বিশেষ করে ভিটামিন সি এবং পটাসিয়াম-এর ভালো উৎস হওয়ায় এটি শরীরের সামগ্রিক সুস্থতার জন্য উপকারী।  Aalu makha ⚠️ আলুর অপকারিতা (Side Effects of Potato) ১. ওজন বৃদ্ধি ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অতিরিক্ত আলু খেলে ওজন ...